নোটিশ :
জরুরী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ সাপ্তাহিক শরীয়তউল্লহর জন্য মাদারীপুরের বিভিন্ন উপজেলা ও দৈনিক আপোষহীণ বাণীর জন্য সারাদেশে সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুনঃ ০১৭১২৫৪০২৯৯,০১৭৮২২০৬২৫৫. সিভি পাঠানঃ gausurrahman1980@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ :
মাদারীপুরে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মৌলভী আছমত আলী খানকে কটুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে রাস্তায় পড়ে থাকা এক অজ্ঞাত বৃদ্ধের দায়িত্ব নিলো প্রশাসন মাদারীপুরে স্বাস্থ্য বিধি মেনে নিয়মিত কোর্ট চালুর দাবীতে আইনজীবীদের মানববন্ধন মাদারীপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত মেহেদী রং শুকানোর আগেই, নববধুর রহস্যজনক মৃত্যু পরিবারে শোকের ছায়া মাদারীপুরে পাঁচ দিনব্যাপী ভূমি সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন মাদারীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ১ রেস্টুরেন্ট শ্রমিকের মৃত্যু!! আহত ১ জন হাসপাতালে ভর্তি মাদারীপুরে ৬ টি গাঁজার গাছসহ র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার-১ মাদারীপুরে দুই সপ্তাহব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু ৫ জুন মাদারীপুরে ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার
মাদারীপুরের ২৪ যুবক লিবিয়ার বন্দী শিবিরে নির্যাতনের শিকার

মাদারীপুরের ২৪ যুবক লিবিয়ার বন্দী শিবিরে নির্যাতনের শিকার

মাদারীপুরের ২৪ যুবক লিবিয়ার বন্দী শিবিরে নির্যাতনের শিকার

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ
লিবিয়ার বেনগাজী হত্যাকান্ডের বছর না ঘুরতেই ফের সক্রিয় মানব পাচারকারীচক্র। এবার জেলার বিভিন্ন এলাকার ২৪ যুবককে লিবিয়ায় বন্দী শিবিরে আটকে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের এমন একটি ভিডিও ফেইজবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে জাহিদ খান ইউছুফ নামের এক ব্যক্তিকে বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সদর থানায় এনেছে পুলিশ।
এলাকাবাসী ও ভূক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একটি দালালচক্র সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চাষার গ্রামসহ জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে সহজ-সরল মানুষকে চিহ্নিত করে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে নিয়ে যায়। তারা বিভিন্ন দেশে মোটা বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, সদর উপজেলার চাষার গ্রামের জাহিদ খান ইউছুফ নামের এক ব্যক্তি ৪/৫ বছর ধরে মানব পাচারের সাথে জড়িত। তার মাধ্যমে প্রায় ৩‘শত যুবক লিবিয়ায় গেছে। যাদের অধিকাংশ সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালী পৌঁছেছে। জাহিদ খান জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিদেশ যেতে ইচ্ছুকদের সংগ্রহ করে প্রত্যেকের সাথে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা চুক্তি করে লিবিয়া পাঠায়। লিবিয়ায় হাত বদল হয় একধিক মাফিয়া চক্রের কাছে। এক একটি চক্র টাকার জন্য বন্দী শিবিরে আটকে রেখে মির্মম নির্যাতন চালায়। ওই নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হয় পরিবারের কাছে। মাফিয়াদের চাহিদা মতো যারা টাকা দেয় তাদের সাগর পথে ইতালীর উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়। যারা টাকা দিতে দেরি বা ব্যর্থ হয় তাদের ওপর চলে মাসের পর মাস অমানবিক নির্যাতন। জাহিদ খানের মাধ্যমে পাঠানো বেশকিছু যুবক এখনও লিবিয়ার বিভিন্ন শহরে আটকে রয়েছে। তার মাধ্যমে যাওয়া ২৪ যুবক গত ৩ মে থেকে লিবিয়ায় মাফিয়াদের হাতে বন্দী। তাদের অনেককে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। সম্প্রতি এরশাদ হোসেন জনি নামে এক যুবককে নির্যাতন করা হচ্ছে এমন একটি ভিডিও ফেইজবুকে ভাইরাল হয়। তার বাড়ি সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চাষার গ্রামে। তার সঙ্গে আছে হাবু হাওলাদারের ছেলে হিফজু হাওলাদার এবং একই ইউনিয়নের সরদার কান্দী এলাকার মোঃ আসাদুল খান ও মোঃ জাহিদুল ইসলাম। বাকি ২০ জনের বাড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকার বলে জানা গেছে। তবে জাহিদ খান এলাকার প্রভাবশলী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলছে না। নির্যাতিত জনির পরিবারের কেউ মুখ না খুললেও লিবিয়ায় আটক হিফজু হাওলাদারের বাবা হাবিব (হাবু) হাওলাদার বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে জাহিদ খান ইউছফের মাধ্যমে দু‘মাস আগে লিবিয়া পাঠাই। তার সাথে আমার ৮ লক্ষ টাকা চুক্তি হয়। ২ লক্ষ টাকা আমি ইতিমধ্যে তার কাছে দিয়েছি। বাকি টাকা লিবিয়া যাওয়ার পর দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ২দিন ধরে আমার ছেলেসহ মোট ২৪ জন লিবিয়ার মাফিয়াদের হাতে আটকা রয়েছে। আমি আমার ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় দেখতে চাই। এ ব্যাপারে জাহিদ খান আমাকে বলেছে, আমি আপনার ছেলেকে ছাড়িয়ে আনার ব্যবস্থা করবো।’
এ ব্যাপারে জাহিদ খান ইউসুফ বলেন, ‘আমি কোন লোক পাঠাই নাই। এ ব্যপারে আমি কিছু জানি না।’
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘জাহিদ খান ইউছুফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সে লিবিয়ায় লোক পাঠানোর কথা আমাদের কাছে স্বীকার করছে। আমরা আরও তদন্ত করে দেখছি।’

উল্লেখ্য যে ২০২০ সালের ২৮ মে রাত ৯টা দিকে লিবিয়ার বেনগাজীর মিজদাহ এলাকায় গুলি করে যে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করে মানব পাচারকারীরা। এর মধ্যে নিহত ১২ জন ও আহত ৪জনের বাড়ি মাদারীপুরে। ওই ঘটনায় বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা হলে র্যাব ও পুলিশ মূল হোতা ৫ মামলার আসামী জুলহাস সরদার, মানব পাচার মামলার প্রধান আসামী সদর উপজেলার দিনা বেগম, মুকসুদপুর উপজেলার লোহাইড় গ্রামের রতন সিকদারের ছেলে সেন্টু সিকদার ও যাত্রাবাড়ি গ্রামের রব মোড়লের স্ত্রী নার্গিস বেগম, রাজৈরের পাঠানকান্দির সামাদ শেখের ছেলে ইমাম হোসেন শেখ, রাজৈর উপজেলার উত্তর আড়াইপাড়া গ্রামের হানিফ বয়াতী ও তার ছেলে নাসির বয়াতী, রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের নুরপুর এলাকার রতন মিয়ার ছেলে রবিউল মিয়া ওরফে রবিসহ ১১জনকে আটক করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020 WeeklyShariatullah.Com
Design & Development: Hostitbd.Com